হত্যা মামলার তালিকায় নাম, তবুও বহাল তবিয়তে পদোন্নতি দোড় আছে: গণপূর্তের তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে দুর্নীতির পাহাড় ।
লিটন আলী
আপলোড সময় :
২৭-০৮-২০২৬ ০৬:১৩:১৫ অপরাহ্ন
আপডেট সময় :
২৭-০৮-২০২৬ ০৬:২৫:১৪ অপরাহ্ন
স্টাফ রিপোর্টার:
গুরুতর ফৌজদারি অপরাধের মামলা ও দুর্নীতির একাধিক অভিযোগ মাথায় নিয়েও একের পর এক গুরুত্বপূর্ণ পদ বাগিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ইলেকট্রিক্যাল-মেকানিক্যাল (ই/এম) সার্কেল-৪-এর তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমের বিরুদ্ধে
জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে হত্যার ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় গণপূর্তের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তার সাথে তার নাম আসার পরও কীভাবে তিনি পদোন্নতি ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পান, তা নিয়ে খোদ প্রশাসনিক মহলেই তীব্র ক্ষোভ ও বিস্ময় সৃষ্টি হয়েছে
সিন্ডিকেট ও দুর্নীতির রাজত্ব:
অনুসন্ধানে জানা যায়, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তৈমুর আলম নিজের ভাই ও শ্যালকসহ একটি শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন
কাগজে-কলমে উচ্চমান, বাস্তবে নিম্নমানের সামগ্রী:অনুসন্ধানে জানা যায়, ঢাকার ই/এম সার্কেলের অধীনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবন, হাসপাতাল ও ভিআইপি কোয়ার্টারে বৈদ্যুতিক সাব-স্টেশন, লিফট, জেনারেটর এবং সেন্ট্রাল এসি সরবরাহের কাজ বরাদ্দ নেয় তৈমুর আলমের নিজস্ব সিন্ডিকেট। সরকারি স্পেসিফিকেশন (নকশা ও নিয়ম) অনুযায়ী উচ্চমানের বিদেশী ব্র্যান্ডের মালামাল ব্যবহারের বাধ্যবাধকতা ও বাজেট থাকলেও, এই সিন্ডিকেট অত্যন্ত সস্তা, রি-কন্ডিশন্ড এবং নিম্নমানের লোকাল সামগ্রী ব্যবহার করেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে গণপূর্তের একজন উপ-সহকারী প্রকৌশলী জানান, "তৈমুর আলমের প্রভাবে নিম্নমানের কাজগুলোরও শতভাগ মানসম্মত হয়েছে মর্মে কাজের ছাড়পত্র বা টেস্ট রিপোর্ট দিতে বাধ্য করা হতো।
ফলে কাজ শেষ হওয়ার কয়েক মাসের মধ্যেই বিভিন্ন ভবনের এসি, লিফট ও জেনারেটরে বড় ধরণের যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিচ্ছে, যা সরকারি বড় ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।"ভুয়া বিল ও কোটি টাকার অর্থ আত্মসাৎ:প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ না করেই বা আংশিক কাজ করে ভুয়া কার্য-সমাপ্তি পত্র (Completion Certificate) তৈরি করার বিস্তর অভিযোগ রয়েছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। কোনো কোনো প্রকল্পে মালামাল সরবরাহ না করেই শতভাগ বিল তুলে নিয়ে সরকারি তহবিল তছরুপ করা হয়েছে। এই ধরণের সুনির্দিষ্ট দুর্নীতির অভিযোগে ইতোমধ্যে ঢাকার একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা (সিআর মামলা নং-১১৮/২০২৫) দায়ের হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন।
বড় বড় সরকারি দরপত্র (টেন্ডার) নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নামমাত্র কাজ করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে
ঢাকার ই/এম সার্কেলে দায়িত্ব পালনকালে সরকারি তহবিল তছরুপ, প্রকল্প বরাদ্দ ও কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগে ইতোমধ্যে ঢাকার একটি আদালতে তার বিরুদ্ধে মামলা (সিআর মামলা নং-১১৮/২০২৫) দায়ের হয়েছে, যা বর্তমানে তদন্তাধীন
মামলার আসামি হয়েও যেভাবে পদোন্নতি:দেশের বিদ্যমান সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো সরকারি কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা কিংবা গুরুতর অপরাধের তদন্ত চলমান থাকলে তার পদোন্নতি স্থগিত রাখার নিয়ম রয়েছে। তবে মো. তৈмур আলমের ক্ষেত্রে এই নিয়মের তোয়াক্কা না করেই তাকে প্রাইজ পোস্টিং ও পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো দাবি করছে, বিগত পতিত সরকারের আমলের প্রভাবশালী মহল এবং শক্তিশালী ঠিকাদারি সিন্ডিকেটের লবিংয়ের জোরেই তিনি আইনি জটিলতা এড়িয়ে পদোন্নতি পেতে সক্ষম হন
মনকি ছাত্র-জনতা হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তার বিরুদ্ধে কোনো বিভাগীয় ব্যবস্থা না নিয়ে উল্টো তাকে পুরস্কৃত করায় ক্ষুব্ধ সাধারণ কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা।
বক্তব্য:
এসব গুরুতর অভিযোগের বিষয়ে জানতে প্রকৌশলী মো. তৈমুর আলমের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, আদালতের নির্দেশনা বা মন্ত্রণালয়ের সুনির্দিষ্ট আদেশ ছাড়া কোনো কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া বা পদোন্নতি আটকানোর ক্ষেত্রে কিছু আইনি জটিলতা থাকে, তবে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নিউজটি আপডেট করেছেন : News Upload
কমেন্ট বক্স